দীর্ঘ ২২ বছরের মহাকাশ অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার একটি পর্যবেক্ষণযান। প্রায় দেড় টন ওজনের এই মহাকাশযানের নাম ‘নিল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি’। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর এর অধিকাংশ অংশ পুড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও কিছু ধ্বংসাবশেষ ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে।
মহাকাশে শক্তিশালী বিস্ফোরণ পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করেছিল সুইফট। নাসার হিসাব অনুযায়ী, মহাকাশযানটির অবশিষ্টাংশ পৃথিবীর মানুষের জন্য বড় ধরনের বিপদের কারণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানার ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সংস্থাটির হিসাবে, কোনো মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ২ হাজার ১০০ জনের মধ্যে একজন।
নাসার সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, মহাকাশযানটির টুকরো দক্ষিণ অক্ষাংশের ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রি থেকে উত্তর অক্ষাংশের ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রির মধ্যবর্তী অঞ্চলে পড়তে পারে। এই বিস্তৃত এলাকার মধ্যে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আফ্রিকা, দক্ষিণ ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশ রয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রেও ধ্বংসাবশেষ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ঠিক কোন সময় এবং কোথায় মহাকাশযানটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে, তা নিয়ে পূর্বাভাসে পার্থক্য রয়েছে। অ্যারোস্পেস করপোরেশনের ধারণা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার ভোর ৫টা ১৯ মিনিটে এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। এ সময়ের সঙ্গে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত পার্থক্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনীর পূর্বাভাসে সম্ভাব্য সময় জানানো হয়েছিল সকাল ৭টা ৪২ মিনিট।
মহাকাশযানটির অনিয়ন্ত্রিত প্রত্যাবর্তন মহাকাশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। অ্যারোস্পেস করপোরেশনের মতে, বর্তমানে কোনো মহাকাশযান পাঠানো হলে সেটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আরও কঠোর নিয়ম অনুসরণ করতে হতো। ২০১৯ সালে সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো মহাকাশযানের প্রত্যাবর্তনে প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা ১০ হাজারে একজনের নিচে রাখতে হবে।
সুইফটকে আরও কিছুদিন সচল রাখার পরিকল্পনাও ছিল নাসার। গত জুলাইয়ে বিশেষ উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে এটিকে কক্ষপথে আরও উঁচুতে তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সফল হলে মহাকাশযানটির কার্যক্রম অন্তত আরও ১০ বছর বাড়ানো সম্ভব হতো। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণজনিত প্রভাবে ক্রমাগত উচ্চতা হারাতে থাকে মহাকাশযানটি। একপর্যায়ে ভূপৃষ্ঠ থেকে এর দূরত্ব কমে ২৭৫ কিলোমিটারে নেমে আসে। অতিরিক্ত বায়ুমণ্ডলীয় চাপ সামলাতে না পেরে এটি বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ বন্ধ করে নিরাপদ অবস্থায় চলে যায় বলে জানিয়েছে নাসা।
দীর্ঘদিন মহাবিশ্বের বিভিন্ন বিস্ফোরণ ও মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণে ভূমিকা রাখা সুইফটের এই প্রত্যাবর্তন মহাকাশ গবেষণার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণহীন মহাকাশযানের নিরাপত্তা ঝুঁকিও সামনে নিয়ে এসেছে।




