ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের গ্রেপ্তার ও পুলিশি তদন্ত ঘিরে চলমান আইনি লড়াইয়ে এবার উঠে এসেছে রাজপরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তির প্রসঙ্গ। এতে বাকিংহাম প্যালেসের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রাজা চার্লসের বিরুদ্ধে আনা হয়নি।
জিও নিউজের ১৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি দায়িত্ব পালনে অসদাচরণের সন্দেহে নিজের ৬৬তম জন্মদিনে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন অ্যান্ড্রু। তার গ্রেপ্তার আইনসম্মত ছিল কি না, তা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
আদালতে জমা দেওয়া সাম্প্রতিক নথিতে টেমস ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের আগে অ্যান্ড্রুকে সতর্ক করলে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে তাকে আগাম না জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে পুলিশের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
রাজপরিবারের সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন
উইন্ডসরের রয়্যাল লজ ছেড়ে যাওয়ার পর অ্যান্ড্রু স্যান্ড্রিংহ্যামের মার্শ ফার্মে বসবাস শুরু করেন। স্যান্ড্রিংহ্যাম রাজা চার্লসের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। সেখানে অ্যান্ড্রুকে গ্রেপ্তার ও তল্লাশি চালাতে পৃথক আইনি অনুমতির প্রয়োজন ছিল কি না, তা নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পরদিন রাজা চার্লস এক বিবৃতিতে বলেন, আইনকে নিজস্ব গতিতে চলতে হবে। তার এ বক্তব্যে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় আইনের অনুসরণের প্রতি সমর্থন প্রকাশ পায়।
এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট তদন্তও আলোচনায়
মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক ঘিরে আগেও বিতর্ক হয়েছে। চলমান তদন্তে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা আদালতে জানিয়েছেন, তদন্তের লক্ষ্য ছিল সময়মতো ও নিরাপদভাবে প্রমাণ সংগ্রহ করা। তা করতে ব্যর্থ হলে তদন্তের ওপর জনসাধারণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ২০২৭ সালে ব্যক্তিগত পরিসরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে আইনি প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তিতে আরও সময় লাগতে পারে।
এদিকে, অ্যান্ড্রুর আইনি লড়াইয়ের ব্যয় নির্বাহে রাজপরিবারের আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাকিংহাম প্যালেস চায় না অ্যান্ড্রু তার জন্য নির্ধারিত ভাতা ব্যবহার করে আইনি ব্যয় মেটান। পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং আর্থিক সহায়তা নিয়ে অনিশ্চয়তা—দুই বিষয়েই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন রাজা চার্লসের ভাই।




