ব্রাজিলের আমাজন বনাঞ্চলে বন উজাড়ের হার রেকর্ড ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। ১৯৮৮ সালে এ বিষয়ে তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর এক বছরে এটিই সবচেয়ে বড় পতন। একই সময়ে দেশটির সাভানা অঞ্চল সেরাদোতে বন উজাড় কমেছে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ। ব্রাজিল সরকারের প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
পরিবেশ সংরক্ষণে ব্রাজিল সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এবং অবৈধ গাছ কাটা ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানোর ফলে এ অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাজন সংরক্ষণ ও পরিবেশনীতি দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ক্ষমতায় ফিরে ২০৩০ সালের মধ্যে আমাজনে বন উজাড় বন্ধের অঙ্গীকার করেন। এর আগে ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর শাসনামলে বন উজাড়ের হার বেড়েছিল। বার্তা সংস্থা এএফপির উদ্ধৃত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বলসোনারোর চার বছরের শাসনামলে আগের চার বছরের তুলনায় আমাজনের বনভূমি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি ছিল।
২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বলসোনারোর শাসনামলে খনিজ সম্পদ উত্তোলন ও আদিবাসীদের ভূমিতে খননকাজের প্রসার ঘটে। একই সময়ে বন সংরক্ষণে বরাদ্দ ও কার্যক্রম কমে যায়। পরে ক্ষমতায় ফিরে লুলা অবৈধ গাছ কাটা বন্ধে নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জোরদার করেন। তার সরকারের প্রথম বছরেই বন উজাড়ের হার ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লুলা বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে অবৈধ বন উজাড় শূন্যে নামিয়ে আনা তাদের লক্ষ্য।
আগামী ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনেও আমাজনের ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনে লুলার প্রতিদ্বন্দ্বী জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো। জনমত জরিপে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ফ্লাভিও ক্ষমতায় এলে তার বাবার পরিবেশনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আমাজন অঞ্চলে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
বিশ্বের বৃহত্তম গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন আমাজনের প্রায় ৬০ শতাংশ ব্রাজিলে অবস্থিত। এই বন বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির গতি কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল। কৃষিজমি তৈরি, কাঠ সংগ্রহ ও নির্বিচারে বন পরিষ্কারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ বন হুমকির মুখে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দাবানলের ঝুঁকিও বাড়ছে।
ব্রাজিলের পরিবেশমন্ত্রী জোয়াও পাওলো কাপোবিয়াঙ্কো বন উজাড় কমার ঘটনাকে বড় অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিবেশবিষয়ক সংগঠন অবজারভাতোরিও দো ক্লিমার নির্বাহী পরিচালক মার্সিও আস্ত্রিনিও একে ঐতিহাসিক অর্জন বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এই অগ্রগতি কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ সরকারের পরিবেশনীতি ও তার বাস্তবায়নের ওপর।
সূত্র: বিবিসি