ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা বৃদ্ধির পেছনে ইরানের সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। রিয়াদের দাবি, তেহরান হুথিদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইরানের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সৌদি আরবের পাবলিক ডিপ্লোমেসি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি বলেন, বর্তমান সংঘাতের পরিস্থিতিতে হুথিদের হামলা বৃদ্ধির পেছনে ইরানের উৎসাহ রয়েছে বলে রিয়াদ মনে করে। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের সহায়তা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব এবং ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ওই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এবং দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশন পুনরায় চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। ক্রিমলির ভাষ্য অনুযায়ী, হুথিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ইয়েমেনের সংঘাত কমিয়ে আনার একটি প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ওমানে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রস্তাবিত বৈঠকে হুথিরা অংশ নিতে রাজি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। সৌদি কূটনীতিকের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিরা সৌদি আরবের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার বিষয়ে ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উত্তেজনা সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের পথ বন্ধ করেনি সৌদি আরব।
ক্রিমলি জানান, রিয়াদ তেহরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছে। তাঁর দাবি, হুথিদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ওমান আলোচনার সহায়ক হিসেবে কাজ করছে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয়। রাশিয়া ও চীনের কিছু পক্ষ থেকে ইরান ও হুথিরা সক্ষমতা বা গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন ক্রিমলি। তবে এ বিষয়ে তিনি সম্ভাবনার কথা বলেছেন; অভিযোগের বিস্তারিত প্রমাণ প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টায় পাকিস্তান ও কাতারের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে সৌদি আরব।
ক্রিমলির মতে, সমঝোতার পথে দুটি বড় বাধা রয়েছে—হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ করা। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান আলোচনায় নতুন প্রস্তাব দিতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছে এবং প্রস্তাবগুলোও যথেষ্ট নয়। তেহরানের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা বললেও সৌদি আরবের এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া ছাড়া একে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।




