ভারতের রাজনীতি ও প্রশাসনের ইতিহাসে যেসব ব্যক্তি একাধিক পরিচয়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন, যশবন্ত সিনহা তাদের একজন। আমলা থেকে রাজনীতিবিদ, অর্থমন্ত্রী থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করেছেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে ভারতের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির নানা অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এই প্রবীণ রাজনীতিক। জন্মদিনে তার প্রতি রইল শুভেচ্ছা ও সুস্বাস্থ্য কামনা।
আমলা থেকে অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী—যশবন্ত সিনহার ৮৯তম জন্মদিন আজ
ভারতের রাজনীতি ও প্রশাসনের দীর্ঘ পথচলায় পরিচিত একটি নাম যশবন্ত সিনহা। পেশাগত জীবনের শুরুতে ছিলেন একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে। নীতিনির্ধারণ, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার নাম। ৬ নভেম্বর ৮৯ বছরে পা রাখছেন ভারতের এই প্রবীণ রাজনীতিক। জন্মদিনে তার প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সুস্বাস্থ্য কামনা।
১৯৩৭ সালের ৬ নভেম্বর ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনায় জন্মগ্রহণ করেন যশবন্ত সিনহা। পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৬০ সালে ভারতের প্রশাসনিক পরিষেবা (আইএএস) যোগ দেন। দীর্ঘ ২৪ বছর সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় অর্থ, বাণিজ্য ও পরিবহনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজ করেন। জার্মানির বন শহরে ভারতীয় দূতাবাসে বাণিজ্যবিষয়ক প্রথম সচিব এবং ফ্রাঙ্কফুর্টে ভারতের কনসাল জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৪ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। জনতা পার্টির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ১৯৮৮ সালে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন। পরে জনতা দল এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৯০ সালে চন্দ্রশেখর সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান যশবন্ত সিনহা। পরবর্তী সময়ে অটল বিহারি বাজপেয়ির নেতৃত্বাধীন সরকারেও অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তার অর্থমন্ত্রী থাকার সময়ে করব্যবস্থা, বিনিয়োগ, টেলিযোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে বেশ কিছু অর্থনৈতিক সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়।
২০০২ সালে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৪ সাল পর্যন্ত এই পদে থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক উন্নয়নে তার ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘লিজিয়ন অব অনার’ পান।
বিজেপির সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের পর ২০১৮ সালে দলটি ছেড়ে দেন তিনি। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০২২ সালের ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি, তবে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে তার উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় আসে।
রাজনীতির পাশাপাশি লেখালেখিতেও আগ্রহ রয়েছে যশবন্ত সিনহার। অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক চিন্তাভাবনা নিয়ে লিখেছেন ‘কনফেশনস অব আ স্বদেশি রিফর্মার’সহ বিভিন্ন বই। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অধ্যায় তার লেখায় উঠে এসেছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে নানা রাজনৈতিক অবস্থান ও দায়িত্বের মধ্য দিয়ে যশবন্ত সিনহা ভারতের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর সাক্ষী হয়েছেন। জন্মদিনে এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের প্রতি রইল শুভেচ্ছা। সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনার পাশাপাশি তার অভিজ্ঞতা ও কর্মজীবনের নানা অধ্যায় নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হয়ে থাকুক।
শুভ জন্মদিন, যশবন্ত সিনহা।