প্রতিদ্বন্দ্বী ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক এবং এর মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের বিজ্ঞাপন প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি মেটা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।নিষেধাজ্ঞার আওতায় শুধু টিকটক বা বাইটড্যান্সের সরাসরি বিজ্ঞাপন নয়, তৃতীয় পক্ষের এমন বিজ্ঞাপনও রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের এসব প্রতিষ্ঠানের সেবায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে মেটার প্রচারমূলক বিজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছিল টিকটক। এর পরপরই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় মেটা।মেটার মুখপাত্র ক্রিস স্ক্রো জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের নিজেদের প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্যত্র নিয়ে যেতে পারে—এমন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচার করতে মেটা বাধ্য নয়। তাঁর মতে, বিভিন্ন শিল্পে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ সীমিত রাখা একটি প্রচলিত ব্যবসায়িক চর্চা।
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে বিরোধ
শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে মতবিরোধ আরও বেড়েছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় সম্মত হয় মেটা। এর আওতায় ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি রয়েছে।এরপর টিকটক ও ইউটিউবকেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সব প্ল্যাটফর্মেরই।অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চাপের মুখে রয়েছে টিকটক। এ ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে প্রতিযোগিতা তীব্র
মেটার বিজ্ঞাপন নিষেধাজ্ঞার আগেও টিকটক কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছিল। গত মাসে ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল থেকে ইনস্টাগ্রামের সরাসরি লিংক সরিয়ে দেয় প্ল্যাটফর্মটি। পাশাপাশি শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে মেটার প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনও প্রত্যাখ্যান করে।সব মিলিয়ে দুই প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন আর শুধু ব্যবহারকারী ও বিজ্ঞাপনের বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়টিও তাদের বিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।




