ডারউইন টেস্টে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস ২৮৪ রানে শেষ করে জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পেয়েছে সফরকারীরা।অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে করা ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৪২৬ রান করেছিল। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের বিশাল ব্যবধান তৈরি করে টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকেরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে ২৮৪ রানেই থামতে হয় তাদের।

চতুর্থ দিনে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চাপে রাখেন বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। অ্যালেক্স ক্যারি, বেউ ওয়েবস্টার ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে দ্রুত ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান তিনি।একপর্যায়ে ২০৭ রানে সাত উইকেট হারিয়ে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে যায় স্বাগতিক দল।

সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়েন ক্যামেরন গ্রিন। মিচেল স্টার্ককে নিয়ে তিনি দলকে বিপদ থেকে বের করার চেষ্টা করেন। স্টার্ক ১৮ রান করে তাসকিন আহমেদের বলে আউট হলে ভেঙে যায় তাদের ৪৩ রানের জুটি।

এরপরও একপ্রান্তে দৃঢ় ছিলেন গ্রিন। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত শতরানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। তবে সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি এই ব্যাটার।

চতুর্থ দিনে প্রথমবার বল হাতে নিয়েই গ্রিনকে বোল্ড করেন হাসান মাহমুদ। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ১০৪ রান করেন গ্রিন। তার উইকেটের পর অস্ট্রেলিয়ার শেষ প্রতিরোধও ভেঙে পড়ে।

হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটি উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেটসহ ম্যাচে এখন পর্যন্ত তার শিকার নয়টি।শেষ ব্যাটার নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরির সুবাদে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানের লিড নিতে সক্ষম হয়। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য দাঁড়ায় ৫৭ রানের লক্ষ্য।এই রান তাড়া করে জয় নিশ্চিত করতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় হিসেবে এটি ইতিহাসে জায়গা করে নেবে।