নতুন মৌসুম শুরুর আগে বড় এক ধাক্কা খেল বার্সেলোনা। দলটির তারকা মিডফিল্ডার ফ্রেংকি ডি ইয়ং নিজে মনে করেছিলেন, বিশ্বকাপে পাওয়া হাঁটুর চোট খুব একটা গুরুতর নয়। কিন্তু বার্সেলোনা এখন জানিয়েছে, তার মিডিয়াল কোলাটারাল লিগামেন্ট (এমসিএল) ছিঁড়ে গেছে। এই চোটের কারণে বার্সেলোনার মৌসুম শুরুর সময় মাঠে থাকতে পারবেন না ডি ইয়ং। বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের হয়ে খেলার সময় তার হাঁটুতে এই চোট লাগে। বিশ্বকাপে ওরাঞ্জেদের চারটি ম্যাচেই শুরু থেকে খেলা সাতজন খেলোয়াড়ের একজন ছিলেন ডি ইয়ং। গ্রুপ পর্বে দারুণ খেললেও শেষ বত্রিশে পেনাল্টিতে মরক্কোর কাছে হেরে বিদায় নেয় দলটি। সেই টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়েই হাঁটুর চোটে পড়েন তিনি।


বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বার্সেলোনা নিশ্চিত করে, টুর্নামেন্টে ডি ইয়ং হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এই চোটের কারণে তাকে বেশ কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। ব্লাউগ্রানারা তাদের বিবৃতিতে বলে, ‘চিকিৎসা পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে যে ডি ইয়ংয়ের ডান হাঁটুর মিডিয়াল কোলাটারাল লিগামেন্ট (এমসিএল) ছিঁড়ে গেছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ক্লাবের চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে খেলোয়াড় চিকিৎসা চালিয়ে যাবেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে তার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।’


পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডি ইয়ং নিজেই স্পষ্ট করেন যে তাকে অস্ত্রোপচার করাতে হবে না। পাশাপাশি বিশ্বকাপে ব্যথা নিয়ে খেলে চোট আরও বাড়িয়ে ফেলার যে অভিযোগ উঠেছিল, তারও জবাব দেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে ডি ইয়ং লেখেন, ‘সাধারণত আমাকে নিয়ে, দল বা ক্লাবকে নিয়ে কী লেখা হচ্ছে, তা নিয়ে আমি খুব একটা মাথা ঘামাই না। কিন্তু সম্প্রতি আমার চোট এবং বার্সায় আমার পরিস্থিতি নিয়ে অনেক জল্পনা হচ্ছে।’


তিনি আরও লেখেন, ‘ভুল তথ্যের কারণে মানুষ ক্লাবের প্রতি আমার সম্পর্ক এবং প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, এটা দেখতে আমার কষ্ট হয়। ফুটবলই আমার সবকিছু, এবং আমি সবসময় এফসি বার্সেলোনা এবং আমার দেশের জন্য নিজের সবটুকু দিয়েছি। এখন আমি পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছি সুস্থ হয়ে যত দ্রুত সম্ভব মাঠে ফেরার দিকে।’


তিনি লেখেন, ‘বিশ্বকাপের সময় আমার হাঁটুতে চোট লাগে। প্রথম পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা আমাকে বলেছিলেন, এটা ছোট একটা চোট এবং খেলা চালিয়ে গেলে তা আরও খারাপ হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘একমাত্র চ্যালেঞ্জ ছিল কিছুটা ব্যথা নিয়ে খেলা। তবে আমার পুরো ক্যারিয়ারে যখনই আমি দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছি, তখনই এমনটা করেছি। ক্লাব হোক বা দেশ, সবসময়ই।’


তিনি শেষে লেখেন, ‘পরবর্তী পরীক্ষায় দেখা গেছে চোটটা প্রথমে যতটা মনে হয়েছিল, তার চেয়ে গুরুতর। ভাগ্য ভালো যে এখন পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের দরকার নেই, এবং আমি এখন পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছি সুস্থ হয়ে যত দ্রুত সম্ভব মাঠে ফেরার দিকে।’ শেষ বত্রিশে মরক্কোর বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় ডি ইয়ংকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল। ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো ফিফার এই প্রধান টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে (২০০২ ও ২০১৮ সালে বাছাইপর্বে ব্যর্থ হয়, ১৯৯০ সালে শেষ ষোলোয় হারে) কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয় নেদারল্যান্ডস। ২৩ আগস্ট এলচের মাঠে লা লিগা অভিযান শুরু করবে বার্সেলোনা। হান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা তৃতীয় লিগ শিরোপা জেতার লক্ষ্যে নামা এই ম্যাচে পাওয়া যাবে না ডি ইয়ংকে।