ইসলামে সুদকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। একজন মুসলমানের জন্য হালাল উপার্জন ও পবিত্র রিজিক অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো হিসাবের সঙ্গে সুদের অর্থ যুক্ত হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের অর্থ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা বৈধ নয়। তবে সেই অর্থ থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য শরিয়তে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা রয়েছে।

ফিকহবিদদের মতে, সুদের অর্থ নিজের ভোগ, ব্যক্তিগত প্রয়োজন কিংবা সম্পদ বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করা যাবে না। বরং এ অর্থ নিজের মালিকানা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকৃত দরিদ্র বা অভাবী ব্যক্তিকে অর্থটি দিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

**দরিদ্র আত্মীয়কে দেওয়া যাবে**

কোনো আত্মীয় যদি প্রকৃত অর্থেই অভাবী হন এবং জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন, তাহলে তাকে সুদের অর্থ দেওয়া বৈধ বলে উল্লেখ করেছেন হানাফি ফিকহের আলেমরা। দরিদ্র ভাই-বোন, চাচা, ফুফু, মামা কিংবা অন্যান্য আত্মীয়ের প্রয়োজন মেটাতেও এ অর্থ দেওয়া যেতে পারে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এ অর্থ দেওয়ার সময় সওয়াবের নিয়ত করা যাবে না। কারণ সুদের অর্থ দান করা সাধারণ সদকা নয়। বরং হারাম অর্থ থেকে নিজের সম্পদকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যেই তা দিতে হবে।

**যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিজের ওপর, তাদের নয়**

স্ত্রী, সন্তান কিংবা মা-বাবার মতো যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব শরিয়ত অনুযায়ী নিজের ওপর বর্তায়, তাদের প্রয়োজন মেটাতে সুদের অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। নিজের ওপর থাকা ফরজ দায়িত্ব পালনের খরচ হিসেবে এ অর্থ ব্যবহার করা বৈধ নয়।

অন্যদিকে দরিদ্র আত্মীয়ের চিকিৎসা, খাবার, পোশাক বা শিক্ষার মতো প্রয়োজনীয় কাজে এ অর্থ দেওয়া যেতে পারে। অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা বা নিজের কোনো সুবিধার জন্য অর্থটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

**সুদ থেকে বাঁচার চেষ্টা জরুরি**

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইচ্ছাকৃতভাবে সুদভিত্তিক হিসাব বা বিনিয়োগ চালু রাখা যাবে না। অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো সুদের অর্থ হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হলে তা দ্রুত আলাদা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা বাকারা: ২৭৫)

তাই সুদের অর্থ হাতে এলে তা নিজের সম্পদ হিসেবে ভোগ না করে দরিদ্র ও অভাবীদের দিয়ে নিজের জিম্মা থেকে সরিয়ে দেওয়াই করণীয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সুদের অর্থ যুক্ত হওয়ার সুযোগ কমাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।