মানুষকে আল্লাহ তাআলা সুন্দর ও সুনিপুণ অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম অবয়বে।’ (সুরা ত্বিন: ৪)

মানুষের গায়ের রং, উচ্চতা ও শারীরিক গঠন একেকজনের একেক রকম। কারও গায়ের রং শ্যামলা বা কালো, আবার কারও উজ্জ্বল বা ফর্সা। এগুলো সৃষ্টিকর্তার নির্ধারিত বৈচিত্র্যের অংশ। তবে নিজের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য গায়ের রং কিছুটা উজ্জ্বল করার চেষ্টা করা যাবে কি না—এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে।

ইসলামি ফিকহের আলোচনায় বলা হয়েছে, ক্ষতিকর নয় এমন ক্রিম বা প্রসাধনী ব্যবহার করে সাময়িকভাবে ত্বক পরিষ্কার বা উজ্জ্বল করার চেষ্টা করা নিজে থেকে হারাম নয়। তবে এর সঙ্গে কিছু শর্ত জড়িত।

প্রথমত, আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে অসন্তুষ্টি বা তাঁর দেওয়া রঙকে ঘৃণা করার মানসিকতা থাকা যাবে না। নিজের স্বাভাবিক বর্ণ নিয়ে হতাশা বা স্রষ্টার সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা অনুচিত।

দ্বিতীয়ত, ব্যবহৃত প্রসাধনী শরীরের জন্য ক্ষতিকর হওয়া যাবে না। এমন কোনো উপাদান ব্যবহার করা উচিত নয়, যা ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

তৃতীয়ত, প্রসাধনী ব্যবহারে অপচয় ও অতিরিক্ততার পথেও যাওয়া যাবে না। একইভাবে হারাম বা নাপাক উপাদান রয়েছে—এমন প্রসাধনী এড়িয়ে চলতে হবে।

**অ্যালকোহলযুক্ত প্রসাধনীর বিষয়েও সতর্কতা**

ফিকহের আলোচনায় প্রসাধনীতে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের ধরন বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। হানাফি মাজহাবের ফিকহ অনুযায়ী আঙুর বা কিশমিশ থেকে তৈরি বিশেষ ধরনের অ্যালকোহল এবং অন্যান্য অ্যালকোহলের বিধান এক নয়। তাই কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের উপাদান নিয়ে সন্দেহ থাকলে জ্ঞানী আলেমের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সৌন্দর্যচর্চা ইসলামে একেবারে নিষিদ্ধ নয়। তবে তা হতে হবে বৈধ, নিরাপদ ও পরিমিত। মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি চরিত্র, তাকওয়া ও অন্তরের পবিত্রতাই ইসলামে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাই আল্লাহর দেওয়া স্বাভাবিক গায়ের রং নিয়ে হীনমন্যতায় না ভুগে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ক্ষতিহীন ও বৈধ উপায়ে নিজের যত্ন নেওয়াই উত্তম।