শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ তোমাদের, এই দেশকে তোমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নতুন প্রজন্মকে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চায় দক্ষ হতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-সিজন ২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয়। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত একটি বিদেশি ভাষা শেখা জরুরি। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পারদর্শিতা অর্জন করতে পারলে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে কেউ পিছিয়ে রাখতে পারবে না।
খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে একসঙ্গে দক্ষতা অর্জনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করেন। বলেন, তারা খেলাধুলার পাশাপাশি নাচ ও অ্যাক্রোবেটিকসসহ বিভিন্ন পরিবেশনাতেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অর্থাৎ একাধিক ক্ষেত্রে পারদর্শী হওয়া সম্ভব।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখ ৬৩ হাজার শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রতিভার অভাব নেই। তাদের প্রতিভা বিকাশে উপযুক্ত সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি ছয়-সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে পছন্দ অনুযায়ী একটি শেখার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশের উদাহরণ দিতে অন্য কোনো দেশের নাম উল্লেখ করতে না হয়। ভবিষ্যতে স্কুল-কলেজ, খেলার মাঠ ও সাংস্কৃতিক মঞ্চে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে আবারও দেখা হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহফুজুল আরম খান।
এর আগে বাগেরহাট থেকে খুলনায় আসার পথে রূপসার কুদির বটতলা ও নগরীর ডাকবাংলা মোড়ে পৃথক পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে কুদির বটতলায় পৌঁছে নির্ধারিত অভ্যর্থনার অপেক্ষা না করে গাড়ি থেকে নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে হাত মেলান তিনি। পথসভায় সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়েও কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাড়তি আকর্ষণ ছিল চীনের ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ও লায়ন ড্যান্স। চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরের ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ পরিবেশনায় অংশ নেন। বাংলাদেশ ও চীনের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ পরিবেশনা স্টেডিয়ামে বসে উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।



