জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে যুবসমাজকে দক্ষ, কর্মক্ষম ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, যুবসমাজ একটি দেশের প্রাণশক্তি এবং উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে স্বনির্ভর, উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
আগামীকাল জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ যথার্থ হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অর্জনে যুবসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ হওয়ায় এই জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগানো জরুরি।
তিনি বলেন, যুবসমাজকে উৎপাদনশীল জনশক্তিতে পরিণত করতে মানসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কৃষি, হস্তশিল্প, কারিগরি শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো সম্ভাবনাময় খাতে প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, যুবসমাজকে শুধু কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি নয়, উদ্যোক্তা ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
সামাজিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি যুবকদের মাদক প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজের কল্যাণে সরকার, বেসরকারি খাত, সামাজিক সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তি ও পরিবারকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। যুবকদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাকে জাতীয় অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।




