সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাস বা ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অর্জন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই সময় শেষে সরকারের সাফল্য, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই জনগণের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। তিনি নিজেও এই কমিটির সদস্য। মন্ত্রণালয়গুলোর কাজ অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

রেল খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ইশতেহারে ঘোষিত আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন সম্প্রসারণে অগ্রগতি হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘অভিযাত্রিক কমিউটার’ নামে নতুন এক জোড়া ট্রেন চালু করা হয়েছে।বাণিজ্য খাতে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার ১ হাজার ৫৪টি পণ্য বাংলাদেশে একই সুবিধা পাবে।

এ ছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেশের প্রথম বায়ো-ড্রাইং প্ল্যান্ট স্থাপনের কথা জানান তিনি।সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকেও সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখা হয়েছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৭০ হাজার ৮৬১টি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নে কর্মসূচিটির দ্বিতীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সারা দেশে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।তবে ১৮০ দিন শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে আনুষ্ঠানিক ভাষণ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।