প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির অবস্থানে এখনো পুরোপুরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকার পক্ষ থেকে সফরের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রস্তুতি দৃশ্যমান না হলেও দিল্লির কূটনৈতিক মহল সফরের সম্ভাবনা এখনো উড়িয়ে দিচ্ছে না।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, উপযুক্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরি না হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা কম। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নিজেই নেবেন।

নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করে নয়, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনায় অগ্রগতি হলে উপযুক্ত সময়েই ভারত সফর করা হবে।তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থে আপস করা হবে না।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বিষয়টি ইতোমধ্যে চলমান এবং ভারতে অবস্থানরত অন্য পলাতক অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত।

এদিকে দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিছু দ্বিপক্ষীয় বিষয় এখনো অমীমাংসিত থাকায় সম্ভাব্য সূচি স্থগিত রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সফরকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে বলেও কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। আগস্টের শেষভাগ কিংবা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি কোনো আন্তর্জাতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে সফরের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এএএম সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। একই বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও সর্বশেষ ব্রিফিংয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও প্রত্যর্পণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অগ্রগতি হলেই সফরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।