বায়োটেকনোলজিতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিধি বাড়াতে যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) ও জাতীয় জীবপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (এনআইবি)। এ লক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, বায়োটেকনোলজিতে ডিপ্লোমা, এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি কার্যক্রম যৌথভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে সচিব বলেন, এনআইবির আধুনিক গবেষণাগার ও প্রযুক্তিগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাউবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উন্নত গবেষণার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে বাউবির স্কুল অব এগ্রিকালচারের এমএস ও পিএইচডি গবেষকেরা এ সহযোগিতার মাধ্যমে উপকৃত হবেন। বায়োটেকনোলজির বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন ওষুধ, জৈব সার, জলবায়ু-সহনশীল ফসল উদ্ভাবন এবং মৎস্য খাতের উন্নয়নে যৌথ গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
গবেষণার মান বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে সচিব বলেন, এনআইবির বিজ্ঞানীদের মূল গবেষণা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাউবির তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা কার্যক্রমেও সহায়তা মিলবে। যৌথ ডিগ্রি ও সনদে উভয় প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি মানসম্মত কাজ ও নির্দিষ্ট গবেষণালব্ধ ফল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সচিব আরও বলেন, বাউবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা হবে। সরকার যে ন্যাশনাল ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠা করছে, সেখানে দুই প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তাদের যৌথ গবেষণা থেকে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়া দেশের কৃষি, ওষুধশিল্প এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান জানান, যৌথ পাঠ্যক্রম ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তৈরি, জিনোমিক্স, বায়োইনফরমেটিকস ও মলিকুলার বায়োলজিতে গবেষণা, পরীক্ষাগার ও যন্ত্রপাতি ভাগাভাগি করে ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ থাকবে এ সহযোগিতায়। মেধাস্বত্ব ও গোপনীয়তা রক্ষায়ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করা হবে।
সমঝোতা স্মারকে এনআইবির পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সগীর আহমেদ। বাউবির পক্ষে স্বাক্ষর করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার টি এম আহমেদ হোসেন। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী ও ড. সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী, বাউবির স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ মন্ডলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।