প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। চারজন পূর্ণ মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তরও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি বাড়ানো, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক জোটকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা সামনে রেখে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে কাজের গতি ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে অসন্তোষ থাকায় দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে মন্ত্রীদের কাজের ওপর সরকারের কঠোর নজরদারির বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। অভিজ্ঞ এই নেতাকে বড় বাজেট ও জনগুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়াকে সরকারের প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মধ্যে নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেটিও এবারের রদবদলে গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে। রাজনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদেও নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের শূন্যতাও পূরণ হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ড. খলিলুর রহমানের পাশাপাশি নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হুমায়ুন কবির। আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম সামনে রেখে মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা বাড়াতেই এই সংযোজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমান রদবদলকে মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও কিছু মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন কিংবা মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও রয়েছে।