সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অর্থায়নের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার ভাষ্য, একবারে পুরো অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ চলছে এবং এর অর্থের সংস্থান কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে হিসাব-নিকাশ চলছে।

সোমবার প্রকাশিত এক গণমাধ্যম সাক্ষাৎকারে সরকারি কোষাগারের অর্থ পরিস্থিতি, নতুন বেতন কাঠামো এবং বড় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অর্থমন্ত্রী।

নতুন পে স্কেলের অর্থায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, একসঙ্গে পুরো অর্থ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।দুই ধাপে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে এবং হিসাব করা হচ্ছে। তার মতে, বড় অঙ্কের আমদানির কারণে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও একবারে পুরো অর্থের ব্যবস্থা করা কঠিন।

রাজস্ব আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা সম্পর্কে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের সর্বনিম্ন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

আগের সময়ের কর ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, সুশাসনের ঘাটতি ও দুর্নীতির মতো সমস্যা ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এসব ক্ষেত্রে সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি দাবি করেন, গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক ফল দেখা গেছে। সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই ভাগ করার প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে সরকারের অতিরিক্ত ঋণের প্রয়োজন কমবে বলে আশা করছেন তিনি।

সরকারের অর্থায়নে ব্যাংক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতারও সমালোচনা করেন অর্থমন্ত্রী। তার মতে, সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাত অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই বিকল্প উৎস থেকে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

চলতি বছরের জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেটি বহাল থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।