জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সাশ্রয়ী উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের পাশাপাশি তা যেন ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার নাগালে থাকে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস সম্মেলন (আইসিপিএস-২০২৬) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ওষুধ আবিষ্কার, ন্যানোমেডিসিন ও লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসাপদ্ধতি ওষুধবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এসব প্রযুক্তি ক্যানসারসহ জটিল রোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উদ্ভাবনের পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানোর বিষয়টিও গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করা, বড় স্বপ্ন দেখা এবং মানবকল্যাণকে গবেষণার মূল লক্ষ্য হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, ওষুধ গবেষণায় তথ্যের সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি। ওষুধের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে মানুষের আস্থা ধরে রাখতে এসব নীতির বিকল্প নেই।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালায়ার যৌথ উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যৌথ গবেষণা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়ের সুযোগ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন শাহরিয়ার, ইউনিভার্সিটি অব মালায়ার ড. মোহাম্মদ ফৌজি আবদুল জলিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক দীপক কুমার সাহা। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য বেনজীর আহমেদ ও এম এ কাশেম উপস্থিত ছিলেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক নাসের ইউ আহমেদ।
সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ভারত ও শ্রীলঙ্কাসহ ১১টি দেশের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। ১০ থেকে ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘বিশ্বস্বাস্থ্যের উন্নয়নে ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেসে উদ্ভাবন’। এতে গবেষণা প্রবন্ধ ও পোস্টার উপস্থাপনার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ওষুধশিল্পের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।