ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ হাজার বছর ধরে শান্তিতে বসবাস করে আসছে। আগামী দিনেও সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে রংপুর নগরীর ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সারা দেশে সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। যারা সরকারকে ভোট দিয়েছেন, যারা দেননি—সব নাগরিকের জন্যই সরকার কাজ করছে। রংপুর নগরীর উন্নয়নে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রয়োজনীয় সড়ক-অবকাঠামো, সেতু, কালভার্ট, স্কুল ও কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাষ্ট্রের সব মানুষের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার যখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মতো ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকেও বিতর্কিত করার চেষ্টা না করার আহ্বান জানান তিনি। কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে সংসদে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তা তুলে ধরার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের কল্যাণে যা প্রয়োজন, সরকার সেই সিদ্ধান্ত নেবে। এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা ও চাকরিতে বিঘ্ন ঘটে।
দেশকে স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চায় সরকার। এ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ। তাই জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
রাধাগোবিন্দ মন্দিরের একটি অসমাপ্ত অবকাঠামোর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রাম থেকে শহরে আসা অসচ্ছল মানুষ সেখানে বিনামূল্যে থাকার সুযোগ পান। স্থাপনাটির কাজ শেষ করতে আরও অর্থের প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে আগামী দুই বছরের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি।
এর আগে সকালে ঢাকা থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে সড়কপথে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে পথসভায় বক্তব্য দেন। পাগলাপীরের সভায় তিনি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানান। কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য ভাতার ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রাধাগোবিন্দ মন্দিরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা। এ সময় শিল্পীরা প্রধানমন্ত্রীর সামনে অসুর নৃত্য ও নাটক পরিবেশন করেন। প্রায় এক ঘণ্টা মন্দিরে অবস্থান শেষে তিনি রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন।




