বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আইন, ২০১৩-এর প্রস্তাবিত সংশোধনীতে চারটি ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন (বাপবিএ)। সংগঠনটির দাবি, এসব ধারা কার্যকর হলে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই বিতর্কিত ধারাগুলো বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে আইন চূড়ান্ত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
রবিবার (১ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অবস্থান তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত সংশোধনীর ৬(ঠ), ২৪(১), ২৮ ও ২৯ ধারার মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর জনবল ব্যবস্থাপনা, বেতন কাঠামো, চাকরিবিধি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বোর্ডের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সংগঠনটির আশঙ্কা, এ ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন ও বেতন-ভাতাসহ চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সমিতিগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংকুচিত হবে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও অসন্তোষ বাড়তে পারে। এর নেতিবাচক প্রভাব গ্রাহকসেবা এবং বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রমেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাপবিএর নেতারা আরও দাবি করেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীর কয়েকটি বিষয় ১৯৯৭ সালের মূল অধ্যাদেশ এবং সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ২০২৫ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে এক ও অভিন্ন সার্ভিস কোড চালুর যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, নতুন প্রস্তাব তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও অভিযোগ তাদের।
এ বিষয়ে গত ২৯ অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি।
পল্লী বিদ্যুৎ খাতে বিরাজমান অসন্তোষ নিরসন এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চারটি বিতর্কিত ধারা বাদ দেওয়া, এক ও অভিন্ন সার্ভিস কোড বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধনী চূড়ান্ত করার দাবি জানিয়েছে বাপবিএ।