দেশে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগকে স্বাধীন, শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিচার বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
শুক্রবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির নবীন সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, মেধা, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। পেশাগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে নিয়মিত অধ্যয়ন, আইনের গভীর জ্ঞান এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে মক্কেলের আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষা করাকে আইনজীবীদের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বিচারক কিংবা আইনজীবী—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। আদালতে রাজনৈতিক প্রভাব বা ক্ষমতার দাপটের পরিবর্তে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো বিচারকের কর্মকাণ্ডে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
নবীন আইনজীবীদের পেশাগত প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য চলতি বছর আইন মন্ত্রণালয় থেকে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আইনজীবীদের কাজের সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি কোম্পানিতে একজন করে আইনজীবী নিয়োগের বিধান চালুর বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
আইনজীবীদের সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পেশাগত সততা বজায় রাখার পাশাপাশি অসহায় মানুষের আইনি সহায়তায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন। একজন আইনজীবী তাঁর পরিচালিত মামলাগুলোর মধ্যে অন্তত দুটি মামলা দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে পরিচালনা করতে পারেন।
বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অতীতের হত্যা, অন্যায় ও অবিচারের বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। গত ১৬ বছরের বেশি সময়ের রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রাণহানি, গুম এবং বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবসহ সমিতির সাবেক ও বর্তমান নেতারা, বিচার বিভাগের কর্মকর্তা, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং নবীন আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।