বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে শতভাগ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথের ওপর প্রভাব’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) ও ‘অধিকার’ যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে।

রিজভী বলেন, ভারতেও নির্বাচন নিয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা নেই এবং বিভিন্ন সময় অভিযোগ ওঠে। তবে নির্বাচন শেষে ফলাফল মেনে নেওয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকার ও বিরোধী দলের নেতাদের ভাষা ও শব্দচয়নে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য নেতা-কর্মীদের মধ্যে সহিংসতার প্রবণতা বাড়াতে পারে।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু আইন ও বিধি তৈরি যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। এ ক্ষেত্রে মানুষের রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিষয়ও তুলে ধরেন দলটির এই নেতা। তিনি জানান, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার, অব্যাহতি ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

রিজভীর দাবি, বিএনপি বর্তমানে দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে আগের তুলনায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দখল, সন্ত্রাস বা মাস্তানির সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। বিরোধী দলের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করা বিরোধী দলের স্বাভাবিক দায়িত্ব। তবে সেই সমালোচনা গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী হওয়া প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরিতে প্রত্যেক রাজনৈতিক পক্ষকে নিজেদের কর্মকাণ্ডও মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, কোনো সংঘাত বা রাজনৈতিক সমস্যার জন্য এককভাবে একটি পক্ষকে দায়ী করলে প্রকৃত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব নয়।