রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে ‘অর্থহীন’ ও ‘প্রহসন’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এ ধরনের নির্বাচনের অংশ হতে চাননি বলেই তিনি ভোট দেননি।বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। তবে ভোট না দিলেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রুমিন ফারহানা।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার পেছনে তিনটি কারণের কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রথম কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো নির্বাচনে ফলাফল নিয়ে যদি অনিশ্চয়তা না থাকে, তাহলে সেটিকে প্রকৃত নির্বাচন বলা যায় না। তার দাবি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল কী হবে, তা সবার কাছেই আগে থেকে পরিষ্কার ছিল।দ্বিতীয় কারণ হিসেবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য। তার বক্তব্য, রাজনৈতিক দলগুলোর সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত—এমন সংস্কারের কথা দীর্ঘদিন ধরে বলা হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির এমপিদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না।

রুমিন ফারহানার দাবি, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিষয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল। তার প্রশ্ন, যদি সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটাধিকারই না থাকে, তাহলে ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের দাবি নিয়ে এত আলোচনা কেন?তিনি আরও বলেন, ভোট শেষ হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। অথচ তার মতে, সংশোধনের আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়ই সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেত।

ভোট না দেওয়ার তৃতীয় কারণ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের মাধ্যমে একজন রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়ার সুযোগের কথা উল্লেখ করেন রুমিন। তার মতে, সব দল আলোচনার মাধ্যমে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দিতে পারত।রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। ২০১৬ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য এবং দলের ৩১ দফায় ক্ষমতার ভারসাম্যের যে ধারণা রয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেই বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা।