খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত না করে চরাঞ্চল, লবণাক্তপ্রবণ, খরাপ্রবণ ও কম ফসলি জমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বিশ্ব তুলা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর খামারবাড়ির তুলা ভবনে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশের সীমিত কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বাড়াতে হবে। যেসব এলাকায় প্রচলিত খাদ্যশস্যের উৎপাদন তুলনামূলক কম, সেখানে তুলাসহ বিকল্প ফসলের আবাদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তুলা উৎপাদন বাড়াতে নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, তুলা চাষের জন্য খাদ্যশস্যের জমি ব্যবহার করা যাবে না। বরং অনাবাদি, চর ও কম ফসলি জমিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তুলার সঙ্গে হলুদসহ লাভজনক সাথি ফসল চাষের সম্ভাবনাও কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে তুলার উৎপাদন ৫ লাখ বেলে উন্নীত করতে বিস্তারিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরির নির্দেশনা দেন। এতে প্রতিবছর কত জমিতে আবাদ বাড়ানো হবে, কোন এলাকায় সম্প্রসারণ করা হবে এবং কতজন কৃষককে যুক্ত করা হবে—এসব বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করার কথা বলেন।
প্রাকৃতিকভাবে রঙিন তুলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের তুলা উৎপাদন করা গেলে কাপড় তৈরিতে রাসায়নিক রঙের ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সলিম খান।