দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে র্যাব ও ডিজিএফআই একযোগে কাজ করছে এবং বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়েছে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এবং হাম চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের একটি শ্রেণি ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায়। এ ধরনের দালালদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দালালদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযানও পরিচালিত হয়েছে।অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে জরিমানা করার পাশাপাশি অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা করা হচ্ছে।ভুয়া চিকিৎসক কিংবা সনদধারী টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে এসব কার্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বাদ পড়া শিশুদের জন্য বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচিহামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের চিহ্নিত করে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালানোর ঘোষণাও দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।তিনি বলেন, আগের টিকাদান কর্মসূচিতে বিভিন্ন কারণে কিছু শিশু টিকা থেকে বাদ পড়েছে। কেউ কর্মসূচির খবর পাননি, কেউ কাজের ব্যস্ততার কারণে সন্তানকে টিকাকেন্দ্রে নিতে পারেননি। আবার কোনো কোনো শিশুর স্কুলে থাকার কারণেও নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগের কর্মসূচিতে ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তারপরও শতভাগ কভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে নতুন করে আরও শিশু টিকার আওতায় আসার বয়সে পৌঁছেছে। ফলে একটি ঘাটতি তৈরি হয়েছে।তার মতে, টিকা না পাওয়া কিছু শিশুর মধ্যে এখন হাম দেখা দেওয়ার অন্যতম কারণ এই ঘাটতি।তিনি আরও জানান, কর্মসূচি চলাকালে বয়সের কারণে কিছু শিশু টিকা নেওয়ার উপযুক্ত ছিল না। পরে তারা টিকা নেওয়ার বয়সে এলেও নিয়মিত কর্মসূচির বাইরে থাকায় টিকা থেকে বাদ পড়ে যায়।
সিলেটের হাওরাঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় মূল ক্যাম্পেইনের আগে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।ওসমানী হাসপাতালের ড্রেনেজ ও পরিচ্ছন্নতায় সাত দিনের নির্দেশওসমানী হাসপাতালের পরিবেশ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে।তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য সমস্যার সমাধানে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকটের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন ডাক্তার বা নার্স রয়েছেন। সীমিত জনবল নিয়েই স্বাস্থ্যকর্মীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের সব সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
প্রিয় বাংলাদেশজাতীয়


