এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে সরকার। এক বছর অপেক্ষার পরিবর্তে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা নেওয়া এবং শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
শনিবার ঢাকায় ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব পরিকল্পনার কথা জানান। গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করে। মাহদী আমিন বলেন, এসএসসিতে আশানুরূপ ফল করতে না পারা শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ কাজ করা হচ্ছে। লক্ষ্য হলো, পরীক্ষায় ব্যর্থতার কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ থেমে না যায়।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও আগ্রহ বিবেচনায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, বিদেশি ভাষা শিক্ষা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরির চিন্তা রয়েছে। সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক অর্থসহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।
পুনঃপরীক্ষা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, অনেক শিক্ষক ও অভিভাবক দ্রুত পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে যে বিষয়ে শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, শুধু সেই বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, জাপানি, কোরীয়, চীনা বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ভাষা শেখা এবং স্বল্পমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। কারণ, দীর্ঘ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করেও অনেকের চাকরি নিশ্চিত হয় না। তাই শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।




