দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন চিকিৎসক ও মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও নারীরা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। সচেতনতার অভাব এবং সময়মতো রোগ শনাক্ত না হওয়ায় অনেকেই যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। এ রোগ নারীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনেও প্রভাব ফেলে।
তিনি বলেন, শুধু সভা-সেমিনার কিংবা টেলিভিশনে প্রচার চালিয়ে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। চিকিৎসকদের বছরে অন্তত দুই-তিন দিন নিজ গ্রামে গিয়ে স্থানীয় নারীদের স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ ও সচেতনতার উপায় সম্পর্কে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার মোকাবিলায় প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, দেশে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ১৫ জনের স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হয়। আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৬৩ শতাংশ কোনো ধরনের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসেন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগ দেরিতে শনাক্ত হয় এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।