ফ্যাটি লিভার কি আবার স্বাভাবিক করা সম্ভব? যা জানা জরুরি
লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়াকে সাধারণভাবে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। বর্তমানে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং বিপাকীয় বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেকের মধ্যেই এ সমস্যা দেখা যাচ্ছে।লিভার শরীরের অত্যন্ত…
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
প্রিয় বাংলাদেশস্বাস্থ্য
লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়াকে সাধারণভাবে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। বর্তমানে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং বিপাকীয় বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেকের মধ্যেই এ সমস্যা দেখা যাচ্ছে।লিভার শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। রক্ত থেকে বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণ, প্রোটিন তৈরিসহ শরীরের নানা প্রয়োজনীয় কাজে এটি ভূমিকা রাখে। ফলে লিভারে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চর্বি জমে থাকলে তা ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।অনেকে মনে করেন, ফ্যাটি লিভার হলেই এর আর কোনো সমাধান নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। রোগটি কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং লিভারে স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে কি না—তার ওপর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই নির্ভর করে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে লিভারে জমে থাকা চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে লিভারের কার্যক্ষমতাও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা যায়।লিভার বিশেষজ্ঞ অমিত মান্ডেতের মতে, লিভারে স্থায়ী ক্ষত বা গুরুতর প্রদাহ তৈরি হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে প্রত্যেক রোগীর অবস্থা এক নয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে রোগের পর্যায় নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।শরীরের অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবিটিস, উচ্চ কোলেস্টেরলসহ বিভিন্ন বিপাকীয় সমস্যা থাকলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই শুধু লিভারের বিষয়টি নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে।
ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে করণীয়
ধীরে ওজন কমানো: অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে ওজন কমানোর চেষ্টা করতে হবে। শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৫ শতাংশ কমলেও লিভারে জমা চর্বি কমতে শুরু করতে পারে। তবে দ্রুত ওজন কমানোর পরিবর্তে পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন কমানো বেশি কার্যকর।চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় কমানো: কোমল পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টি, প্যাকেটজাত খাবার এবং পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট যতটা সম্ভব কমানো উচিত।
নিয়মিত ব্যায়াম:
হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার বা শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী অন্যান্য ব্যায়াম নিয়মিত করার চেষ্টা করতে হবে। শারীরিক পরিশ্রম ওজন এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
সুষম খাবার: খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, মাছ, ডিম, পরিমিত মাংস ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা যেতে পারে। তবে কোনো একটি খাবার খেলেই ফ্যাটি লিভার সেরে যায়—এমন দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।ডায়াবিটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে অবহেলা না করা। অনেক সময় শুরুতে তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগের অবস্থা জানা জরুরি।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান ও আলোকিত সমাজ গঠনে বিশেষ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষক সম্মাননা-২০২৬’ (কারিগরি) পদক পেয়েছেন প্রকৌশলী সন্তোষ চন্দ্র দেবনাথ।
প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর প্রভাব বাড়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় আবারও তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান।