জরুরি মুহূর্তে রক্তের অভাবে যেন কোনো রোগীকে জীবন হারাতে না হয়, সে লক্ষ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদানের পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। এ কাজে বিশেষ করে তরুণদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রক্তের মাধ্যমে একজন মুমূর্ষু রোগী নতুন জীবন ফিরে পেতে পারেন। তাই স্বেচ্ছায় রক্তদানকে কেবল চিকিৎসাসেবার অংশ হিসেবে নয়, মানবিক দায়িত্ব হিসেবেও বিবেচনা করা উচিত। এটি মানুষের উপকারের পাশাপাশি পরকালের জন্য সদকায়ে জারিয়া হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তদান নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচলিত ভীতি ও ভুল ধারণা দূর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, সুস্থ ব্যক্তির নিয়ম মেনে রক্তদানে শারীরিক ক্ষতি হয় না—এ তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এ বিষয়ে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে প্রচার-প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। মন্ত্রী বলেন, বিয়ের আগে বর-কনের রক্ত পরীক্ষা করে তাঁরা থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না, তা জানা প্রয়োজন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রসারে সন্ধানীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে মাত্র ছয়জন মেডিকেল শিক্ষার্থীর উদ্যোগে যে মানবিক কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল, তা বর্তমানে দেশের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম শাকিল এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেনসহ অন্যরা।