হাসপাতালের দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিকভাবে গিয়ে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই নার্সকে অন্যত্র পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে (ইউএইচএফপিও) নির্ধারিত সময়ে পাওয়া যায়নি। তাঁর অপেক্ষায় হাসপাতালেই অবস্থান করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে দেরিতে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৭ বছরের শাসনামলে অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের কারণে স্বাস্থ্য খাত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এর প্রভাব পড়েছে হাসপাতালের জনবল, ওষুধ ও টিকা সরবরাহে।
স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি কাটাতে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ ও আউটসোর্সিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি সীমিত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সরকারি হাসপাতালে দালালদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণেও প্রশাসনকে সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিয়েও নতুন অবস্থানের কথা জানান মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিক স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনের মাধ্যমে অনিয়ম চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কালকিনি সফর শেষে মন্ত্রী মাদারীপুরের ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল ঘুরে দেখেন। এ সময় মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়া, জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার, পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহীসহ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।