দেশের চলমান রাজনীতি, অর্থনৈতিক লুটপাট এবং সামাজিক অবক্ষয়ের তীব্র সমালোচনা করে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। ছোটখাটো চুরি বা অনিয়ম গণমাধ্যমে বড় করে প্রচার পেলেও দেশের বড় বড় লুটেরা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড আড়ালেই থেকে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব প্রতিক্রিয়া জানান।

পোস্টে আসিফ লেখেন, সামান্য খাবার বা টিফিন চুরির মতো অপরাধে দেশে মানুষ হেনস্তা এমনকি পিটিয়ে মারার ঘটনাও ঘটে। নেটিজেন ও সাধারণ মানুষ এসব ক্ষুদ্র ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। অথচ অন্যদিকে একটি প্রভাবশালী লুটেরা গোষ্ঠী পুরো দেশকে লুট করে ফাঁকা করে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে তাদেরই নেতা বানায়, তাদের জন্য রাজপথে আন্দোলন করে ‘মজলুম’ হয়, আর পরবর্তীতে সেই নেতাদের হাতেই আবার নিগৃহীত হয়।

রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত শ্রেণি ও সাধারণ জনগণের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থা এই চক্রের ভেতরেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম মাইলফলক—১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সবাক বাংলা সিনেমা ‘মুখ ও মুখোশ’-এর প্রসঙ্গ টেনে ২০২৪ সালের ৩ আগস্টের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেন আসিফ।

ক্রীড়াঙ্গনের সমসাময়িক অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আসিফ আকবর সাফ ফুটবল, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নীরব ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, বাফুফে ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে এবং এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়, বরং একটি পুরোনো পরিকল্পনার অংশ।

নিজের বক্তব্যের শেষাংশে আসিফ আকবর আক্ষেপ প্রকাশ করে লেখেন, দেশের মানুষের ক্ষতির জন্য বাইরের কোনো শত্রুর প্রয়োজন নেই, নিজেরাই নিজেদের বিনাশের জন্য যথেষ্ট। কালচারাল ফ্যাসিস্ট ও চাটুকার কিছু মাধ্যমকে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রধান শত্রু হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।
শেষে তিনি উল্লেখ করেন, সত্যটা না বুঝলে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না—‘প্রাণ দেবে তারুণ্য, ভুগবে তার পরিবার, সুবিধা নেবে এলিট শ্রেণি, আর হাততালি দেবে কাঙালের দল।’
---