দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্তে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাজুস নির্ধারিত নতুন মূল্য ভ্যাটসহ প্রযোজ্য হবে। তবে গয়না তৈরির মজুরি ক্রেতাকে আলাদাভাবে দিতে হবে। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার মূল্য ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। 
২১ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরির দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা। এর আগে ২২ অক্টোবর ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা। একই সময়ে ২১ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে প্রতিটি শ্রেণির সোনার দাম কমেছে।
 গয়না কেনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সোনার দামের সঙ্গে মজুরি ও প্রযোজ্য ভ্যাট যোগ হবে। ফলে ক্রেতাকে দোকানে চূড়ান্ত মূল্য পরিশোধের আগে সোনার ধরন, ওজন, মজুরি এবং ভ্যাটের হিসাব জেনে নিতে হবে। পুরোনো সোনা বদল বা বিক্রির ক্ষেত্রেও নির্ধারিত কর্তনের নিয়ম রয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পুরোনো গয়না বদলের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো সোনা কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ কর্তনের বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।
 বাজুসের হিসাবে, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত সোনার দাম ৬০ বার বাড়ানো হয়েছে এবং ৬৪ বার কমানো হয়েছে। এর পাশাপাশি একবার ভ্যাট-সংক্রান্ত সমন্বয় করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে সোনার দাম মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। ধারাবাহিক মূল্য সমন্বয়ের ফলে দেশের বাজারে সোনার দাম নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে সোনার দাম কেনার আগে বাজুসের সর্বশেষ ঘোষণার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি, কারণ নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাজারদর আবার পরিবর্তিত হতে পারে।