দেশে নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতার ঘটনায় কন্যাশিশুরা বড় অংশজুড়ে রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ৮৮৪ কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। একই সময়ে নারী ও শিশুসহ মোট ১ হাজার ৯১৯ জন সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে ৩৯৭ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৫৯ জন মেয়ে ও ৩৮ জন ছেলে। ছয় বছরের কম বয়সী ৬১ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ৩৭ শিশু ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৫ শিশুকে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৩০৬ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১৭৫। অর্থাৎ, এক বছরে এ ধরনের ঘটনা প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৪৯ জনের বয়স ছিল ছয় বছরের কম।
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি দিক হলো, নির্যাতনের ঘটনা অনেক সময় ঘর ও পরিচিত পরিবেশেই ঘটে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কন্যাশিশুদের ওপর সহিংসতার বড় অংশ ঘটেছে বাড়ি বা পারিবারিক পরিবেশে। ফলে শিশুদের সুরক্ষায় শুধু বাইরের পরিবেশ নয়, পরিবার ও পরিচিতজনদের মধ্যেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এবং শিশু আইন, ২০১৩ রয়েছে। তবে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা, সামাজিক কলঙ্কের ভয় এবং ঘটনা প্রকাশ না করার প্রবণতা বিচারপ্রাপ্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
শিশু অধিকারকর্মীরা এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত বিচার, শিশুবান্ধব পুলিশি সেবা, স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা এবং নির্যাতনের শিকার শিশুদের জন্য কার্যকর সহায়তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধের পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি।




