নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, কারখানার প্রবেশপথ বন্ধ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে একটি শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মালিক মো. তৈয়ব মিয়া। তার দাবি, এ ঘটনায় কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকায় শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে রপ্তানি কার্যক্রম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
বুধবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন পি.আই. ওশান টেক্সের মালিক তৈয়ব মিয়া। তিনি জানান, ফতুল্লার ধাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় অবস্থিত কারখানাটি প্রায় চার বছর ধরে ১০ ফুট প্রশস্ত একটি এজমালি রাস্তা ব্যবহার করে আসছে।
তৈয়ব মিয়ার অভিযোগ, ২০২৬ সালের মার্চে এইচ এ এম মাহমুদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ওই জমির মালিকানা দাবি করে তার কাছে ৭৫ লাখ টাকা চান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে কারখানায় হামলা চালিয়ে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কারখানায় যাতায়াতের রাস্তার ওপর দেয়াল নির্মাণ এবং সেখানে ময়লা-আবর্জনা ও বয়লারের বর্জ্য ফেলে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। বিদেশি ক্রেতাদের কার্যাদেশ ও রপ্তানি চুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আর্থিক লোকসান বাড়ছে। পাশাপাশি ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধেও সমস্যার মুখে পড়েছেন তিনি।
তৈয়ব মিয়ার দাবি, তাকে হয়রানি করতে একাধিক মামলা করা হয়েছে এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি ফতুল্লা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং রাস্তার অধিকার প্রতিষ্ঠায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে বিরোধ নিষ্পত্তি, কারখানার প্রবেশপথ খুলে দেওয়া, অভিযোগ তদন্ত এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।