ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। চলতি অক্টোবর মাসে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৯ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে অনেকে বাড়ি ফিরেছেন। আজ নতুন করে আরও ৬জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯জন। তাঁদের মধ্যে আটজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। একজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জনবহুল মহেশপুর উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এর আগে উপজেলায় ডেঙ্গু রোগের এমন প্রকোপ দেখা যায়নি। তবে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. হেলেনা আক্তার নিপা জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য এখনো আলাদা কোনো ওয়ার্ড চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য পৃথক ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত নয়জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে আটজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং একজন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জ্বরসহ ডেঙ্গু বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
উপজেলাবাসীর প্রত্যাশা, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড চালু এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে সচেতন মহল মনে করেন।




