লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খোরশেদ আলম (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলসাদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খোরশেদ ওই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক জানান, খোরশেদ স্থানীয়ভাবে ‘খোরশেদ বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি সশস্ত্র দলের প্রধান ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ইটভাটায় মাটি সরবরাহের ব্যবসা করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন বলে জানান এসপি।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও মাটির ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে নিজ দলের সদস্যরা খোরশেদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করেন। স্থানীয় ওয়ালিদের নেতৃত্বে মান্না, ইব্রাহিম ছোট্টু, কামরুল, বাচ্চু, হিরু ও জহিরসহ চার থেকে ছয়জন এ ঘটনায় অংশ নেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এসপি আরও জানান, এ ঘটনায় ইব্রাহিম ছোট্টু ও মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছে।
নিহতের স্ত্রী মুক্তা বেগম অভিযোগ করেন, মাটির ব্যবসা নিয়ে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর স্বামীর বিরোধ চলছিল। বিভিন্ন সময়ে তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ওই বিরোধের জেরেই তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুক্তা বেগম।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, ময়নাতদন্তের জন্য খোরশেদের মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।