বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চাপাতলা মধ্যপাড়া এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আব্দুল জব্বার শেখ (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার ভাগ্নে সাইফুল মল্লিক ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাড়িঘর, মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং নগদ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত জব্বার শেখ বর্তমানে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তার ভগ্নিপতি আলামিন হাওলাদার বাগেরহাট সদর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করে লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
আহত জব্বার শেখের বড় ভাই ছাত্তার শেখের অভিযোগ, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে কাজ করছিলেন। এ সময় একদল লোক তাদের বাড়িতে এসে ভাঙচুর শুরু করে। জব্বারকে মারধর করতে দেখে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। জমি থেকে তাদের উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার বিচারও দাবি করেন ছাত্তার শেখ।
জব্বার শেখ জানান, প্রায় ৭৪ শতক জমির মালিকানা নিয়ে তার ভাগ্নে সাইফুল মল্লিকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। জমির বিরোধ আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছিল। তার অভিযোগ, ঘটনার দিন তিনি বাজারে থাকা অবস্থায় সাইফুল মল্লিকের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। খবর পেয়ে বাড়িতে পৌঁছালে লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তার স্ত্রী ও ছেলেও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এজাহারে সাইফুল মল্লিক, শফিক মল্লিক, গাউস মল্লিক, খোকন শেখ, রাজু শেখ, তারেক শেখ, মাফুজা বেগম, রোকসানা বেগম, রোকেয়া বেগম, আসমা বেগম ও জোসনা বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, হামলায় মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে প্রায় ছয় হাজার টাকা এবং দুটি টাচস্ক্রিন মোবাইল ফোন ভেঙে প্রায় ৬৪ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। এ ছাড়া নগদ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন জব্বার শেখকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, আলামিন হাওলাদার নামে একজন এ ঘটনায় এজাহার জমা দিয়েছেন। এজাহার যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।