কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনির হোসেনের বিরুদ্ধে জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা দিতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জন্মনিবন্ধন সংশোধনে ৩ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন জন্মসনদ, মৃত্যু ও ওয়ারিশ সনদ এবং চারিত্রিক সনদ পেতেও টাকা দিতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার বিকেলে ঘুষ নেওয়ার সময় মনির হোসেনকে তারা আটক করেন। পরে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে ভুল হয়েছে বলে জানান।
মঙ্গলবার সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ পাওয়া যায়। বদরপুর গ্রামের সাহাব উদ্দিন অভিযোগ করেন, দুই বোনের জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য তার কাছে ১২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। সরফাতলি গ্রামের রায়হান হোসেন বলেন, তার ভাইয়ের বয়স সংশোধনের জন্য ৪ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। চান্দলা গ্রামের একরাম হোসেনের অভিযোগ, জন্মনিবন্ধনের ভুল সংশোধনে প্রথমে ৩ হাজার টাকা চাওয়া হলেও পরে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা পারভেজ ভূঁইয়া বলেন, মনির হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কয়েক দিন আগে জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য তার মাধ্যমে অনুরোধ করেও ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন পারভেজ।
অভিযোগের বিষয়ে মনির হোসেন বলেন, জন্মনিবন্ধন সংশোধনের কাজ অন্যদের দিয়ে করাতে টাকা দিতে হয়। এ কারণে তিনি টাকা নিয়েছেন। এটি তার ভুল হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আর টাকা নেবেন না। তবে ইউনিয়ন পরিষদের অনিয়ম-দুর্নীতির দায় একা তার নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অহিদুর রহমান বলেন, ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে মনির হোসেনকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




