ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীতে মা ইলিশ শিকার করছেন একশ্রেণির জেলে। প্রশাসনের অভিযান চললেও নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে দিন-রাত ইলিশ ধরছেন তারা। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ শিকার অনেকটা প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে।
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীসংলগ্ন চরাঞ্চলের বহু মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস মাছ ধরা। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার অনেক দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ইলিশের পাশাপাশি ঘাইড়া, আইড়, বাতাসি, চাপিলা ও অন্যান্য দেশীয় মাছও ধরেন তারা।
ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ ধরা, আহরণ, মজুত, পরিবহন ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। তবে যমুনার বিভিন্ন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ শিকার চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেলে জাল ও সরঞ্জাম ফেলে পালিয়ে যান অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজীপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালী ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার নদীজুড়ে কারেন্ট জালের ব্যবহার রয়েছে। ছোট-বড় ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে নদীতে নামছেন জেলেরা। অপরিচিত নৌকা বা অভিযানকারী দল দেখলে জাল-দড়ি ফেলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের বেলুটিয়ার চর এলাকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমরা অভাবী মানুষ। বছরের এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি। এখন মাছ না ধরলে সংসার চলবে না। তাই পেটের তাগিদে এ সময়টা কাজে লাগাই।” অভিযান চললেও বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা না থাকায় মাছ ধরতে নামছেন বলে জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এ সময় সারা দেশে মা ইলিশ ধরা, আহরণ, মজুত, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৬০টি অভিযান ও ৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৪ লাখ ৩০ হাজার মিটার জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া ২১টি মামলা, ৩৩ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা এবং ১৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব জাল নদীর জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর। মা ইলিশ রক্ষা ও দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।