কারও ক্যান্সারের চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম, কেউ চোখের ছানি অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাতে পারছেন না। কেউ অসুস্থ স্বামী-সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, আবার কারও দুশ্চিন্তা ছোট বোনের বিয়ের খরচ। এমন নানা সংকটে থাকা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে অসহায় নাগরিকদের দুর্দশার কথা শুনে তাদের পাশে দাঁড়ান তিনি।
জন্মগতভাবে দুই পায়ে ত্রুটি নিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন শেফালীকা নাহার। স্বামীর মৃত্যুর পর তার সংকট আরও বেড়েছে। অসুস্থ ও বেকার ছেলেকে নিয়ে আর্থিক অনটনে দিন কাটছে তার। নিজের চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা সহায়তা চেয়ে গণশুনানিতে আবেদন করেন তিনি।
একই শুনানিতে সহায়তা চান বাউলশিল্পী নান্টু দেবনাথ। ক্যান্সারে আক্রান্ত এই শিল্পীর চিকিৎসায় আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
দিনমজুর মো. সুজনও এসেছিলেন সন্তানের ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য। ধারদেনা করে ছেলেকে দুই দফা কেমোথেরাপি দিলেও পরবর্তী চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে পারছেন না তিনি। অন্যদিকে, বিধবা দিলোয়ারা ছেলের পেটের টিউমারের চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
গণশুনানিতে আরও সহায়তা চান মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ। ২১ বছর ওমানে কাজ করে দেশে ফিরলেও এখন নিজের হৃদ্রোগ ও স্ত্রীর ডায়াবেটিসের চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারছেন না তিনি।
২০১৩ সালের সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পায়ে স্টিলের পাত বসানো হয়েছিল এ কে এম ফজলুল হকের। এখন সেই পাত অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নেই তার। অন্যদিকে, চোখে ছানি পড়ায় অস্ত্রোপচার ও লেন্স প্রতিস্থাপনের জন্য সহায়তা চান বয়োবৃদ্ধ পারুল বেগম। তাঁর স্বামীও অসুস্থ। ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করা এই নারীর পক্ষে চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
আলসারে আক্রান্ত শয্যাশায়ী স্বামীর চিকিৎসা, দুই সন্তানের পড়াশোনা ও সংসারের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন মনোয়ারা বেগম। নিজেদের চিকিৎসার জন্য সহায়তা চান ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ও মুহাম্মদ দস্তগীর চন্দনপুরীও।
চিকিৎসার বাইরেও ছিল পারিবারিক সংকট। রিকশাচালক নাজমুল হকের ছোট বোনের বিয়ে আগামী ৬ নভেম্বর। অল্প আয়ে সংসার চালানোর পর বিয়ের খরচ জোগাড় করতে না পেরে তিনিও সহায়তার আবেদন করেন।
গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক আবেদনকারীদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। পরে অসুস্থ ও অসহায় ১১ জনকে এবং মেয়ের বিয়ের জন্য একজনকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ক্যান্সারের দীর্ঘ চিকিৎসা কিংবা একটি অসচ্ছল পরিবারের সব সংকট এককালীন সহায়তায় মিটে যায় না। তবে জরুরি সময়ে পাওয়া সহায়তা অসহায় মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমাতে পারে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এদিনের গণশুনানিতে সরাসরি ২৪ জন এবং অনলাইনে পাঁচজন প্রবাসী অংশ নেন। তাদের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।