নিরাপত্তার কারণে রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারির পর বিপাকে পড়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। হোটেল-রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতের সঙ্গে জড়িত শত শত ব্যবসায়ী ও শ্রমিক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ অবস্থায় সাজেক খুলে দেওয়ার দাবিতে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে প্রশাসনের আশ্বাসে স্থগিত রাখা সাজেক সড়কে অবরোধ কর্মসূচি আবারও শুরুর ঘোষণা দিয়েছে দুটি সংগঠন।
সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক সড়কে অবরোধ শুরু হবে। বিবৃতিতে সংগঠন দুটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সভাপতি নতুন জয় চাকমা বলেন, প্রশাসনের আশ্বাসের পরও তাদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় জেএসএস সদস্যদের অবস্থান এবং সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
এর আগে গত রোববার সকাল ৬টা থেকে দীঘিনালার জোড়াব্রিজ-সাজেক সড়কে অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি। সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ২০০ পর্যটক আটকা পড়েন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে রোববার বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ স্থগিত করা হয়।
তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন সাজেকে পর্যটক ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে অবস্থানরত পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা মেনে পর্যটকেরা চলে যাওয়ায় বর্তমানে পর্যটনকেন্দ্রটি পর্যটকশূন্য।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, দুর্গাপূজার ছুটি ও শীতের মৌসুম সামনে রেখে সাজেকের অধিকাংশ রিসোর্ট ও কটেজে ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত আগাম বুকিং ছিল। রয়েল সাজেক রিসোর্টের মালিক জিয়াউল হক বলেন, ১৯ অক্টোবর থেকে অনেক রিসোর্টে শতভাগ বুকিং ছিল। নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে এ ক্ষতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
সাজেক গাড়ির লাইনম্যান মো. ইয়াছিন আরাফাত বলেন, সাধারণত শুক্র ও শনিবার বাদে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০টি গাড়ি সাজেকে প্রবেশ করে। অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞায় চালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
রিসোর্ট মালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাজেকে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৩৫টি রিসোর্ট ও শতাধিক রেস্তোরাঁ রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২০০টি পর্যটকবাহী গাড়ি যাতায়াত করে। প্রতি গাড়ির গড় ভাড়া প্রায় ১৩ হাজার টাকা। এ হিসাবে ১০ দিনে পরিবহন খাতে সম্ভাব্য ব্যবসা হতো প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। পাশাপাশি রিসোর্টের কক্ষ ভাড়া, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য দোকানের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সুপর্ণ দেব বর্মন বলেন, ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সাজেকের ১৩৫টি রিসোর্টে ব্যাপক বুকিং ছিল। নিষেধাজ্ঞায় পুরো পর্যটন ব্যবসা হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।




