রাশিয়া থেকে আমদানি করা পারমাণবিক জ্বালানির আরও একটি চালান পৌঁছেছে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৭টার দিকে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি বিশেষায়িত লরি প্রকল্পের নির্ধারিত এলাকায় প্রবেশ করে।
সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পুরো পরিবহন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশাদুর রহমান চালান পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সর্বশেষ চালানসহ রূপপুর প্রকল্পে চার দফায় পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের জন্য এসেছে এক চালান এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য তিন চালান। তবে দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের কার্যক্রম এখনো বাকি রয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো বিমানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনা হবে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে আরও দুটি চালানে আসবে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি। অর্থাৎ দুই ইউনিটের জন্য মোট নয় দফায় পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় নির্মিত কেন্দ্রটিতে ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষার পরবর্তী ধাপ ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এ পর্যায়ের কাজ শুরুর অনুমতি দেন।
এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের সক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত অংশের কর্মক্ষমতা যাচাই করা হবে। বিশেষ করে টারবাইন, জেনারেটর, পরিচালন পদ্ধতি ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। সব পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেলে কেন্দ্রের জেনারেটর জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। প্রকৌশলগত এই প্রক্রিয়াটি সিনক্রোনাইজেশন নামে পরিচিত।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরেই প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সম্পন্ন করতে হবে।




