কক্সবাজারের নির্জন সৈকতে সাগরে গোসল করতে নেমে চার পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় নামে আরও এক পর্যটক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভের হিমছড়ি সৈকত থেকে মোহাম্মদ হারুন (২০) নামে এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোহাম্মদ সোলেমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধার হওয়া হারুন চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার মোহাম্মদ কবির আহমদের ছেলে। তার আদি নিবাস নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার চাঁনপুর এলাকায়।
এর আগে একই ঘটনায় আরও তিন পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন ঢাকার উত্তরার আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪), সাইবুল হক জিসান (২৩) এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার মো. আকাশ।
স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাইবুল হক জিসান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার মুকাররম হোসেনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বিবিএর শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় ঢাকার আজিমপুর এলাকার নাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেলে মেরিন ড্রাইভের পেঁচারদ্বীপ এলাকার মৎস্য জাদুঘরসংলগ্ন মেরিনা রিসোর্ট সৈকতে গোসল করতে নেমে দুই পর্যটক নিখোঁজ হন। এরপর থেকে লাইফগার্ড, বিচকর্মী ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে হিমছড়ি সৈকতে জোয়ারের পানিতে একটি মরদেহ ভেসে আসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করে। এসআই সোলেমান জানান, উদ্ধার হওয়া হারুনের মরদেহ হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। নিখোঁজ নিবিড়ের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলটি নির্জন সৈকত। স্থানীয় কয়েকজন জেলে পর্যটকদের সাগরে নামতে একাধিকবার নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু নিষেধ উপেক্ষা করে তারা গোসলে নামেন। এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।