জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যেতে হলেও ভরসা করতে হয় স্বজনদের কাঁধ কিংবা খাটিয়ার ওপর। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পোহাতে হয় দুর্ভোগ। এমন পরিস্থিতি পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের জলিশা এলাকার একটি সড়কে। প্রায় ৮৫০ মিটার দীর্ঘ পথটির সংস্কার না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন আশপাশের ৭ থেকে ৮টি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা।
সড়কটির ইটের আস্তরণ উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে কাদা ও পানি জমে চলাচলের পরিবেশ আরও খারাপ হয়ে যায়। যানবাহন চলাচলও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং জলিশা তালুকদার ইসলামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের সহিদ মেম্বারের বাড়ি থেকে সৈয়দ শাহআলম মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ৮৫০ মিটার। স্থানীয় সড়কটির পরিচিতি নম্বর ৫৭৮৯৫৪১১৪। ২০০১ সালে প্রথমবার ইটের সলিং করা হলেও এরপর আর কোনো সংস্কারকাজ হয়নি।
সড়কের দুরবস্থার কারণে সবচেয়ে বিপাকে পড়তে হয় অসুস্থ রোগীদের। স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল করতে না পারায় জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগীদের বহন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। বর্ষায় কাদা ও পানি জমলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক সোহেল খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় ভ্যানচালক মনিরের ভাষ্য, উপজেলা সদরের কাছাকাছি হয়েও এমন একটি সড়কে যানবাহন চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরিয়মও নিজের চলাচলের কষ্টের কথা তুলে ধরে সড়কটি পাকা করার আবেদন জানিয়েছে। তার প্রত্যাশা, বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করতে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মঈনুল আজম জানান, আগের প্রকল্পগুলোর ডিপিবিতে সড়কটি অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন প্রকল্পের তালিকায় এটি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর আশা, শিগগিরই সড়কটির উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।


