২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ১০টি কলেজে আশানুরূপ সাফল্য আসেনি। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, অধিকাংশ কলেজেই পাসের হার সন্তোষজনক নয়। এমনকি কয়েকটি কলেজের পাসের হার ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অন্যদিকে পাসের হারের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে মহেশপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং জিপিএ-৫ পেয়ে মহেশপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ এগিয়ে। 
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ফলাফলের তালিকা অনুযায়ী, মহেশপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ। তালিকায় মহেশপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের পাসের হার ৫২ দশমিক ২ শতাংশ। এ কলেজে ৩৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ জন।
অন্যদিকে পদ্মপুকুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে ৬০৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ। এ কলেজে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন।
এবারের ফলাফলে সবচেয়ে হতাশাজনক অবস্থানে রয়েছে শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ। কলেজটিতে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২৭ দশমিক ১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র একজন। অকৃতকার্য হয়েছে ৩৫ জন শিক্ষার্থী।
ফলাফলের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহেশপুরের অধিকাংশ কলেজে শিক্ষার্থীদের সাফল্য আশানুরূপ নয়। বিশেষ করে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিনটি বিভাগেই ফলাফলের তারতম্য রয়েছে। কয়েকটি কলেজে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ যত্ন এবং শিক্ষকদের যথাযথ তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
সার্বিকভাবে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল মহেশপুরের কলেজগুলোর শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে। এবছর যশোর বোডের পাশের হার ৪৪.৯২শতাংশ।আগামীতে ভালো ফলাফল অর্জনে এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
মহেশপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন তাদের কলেজর সফলতার পিছনে শিক্ষক ছাত্র ও অবিভাবকদের সমন্বিত ফল। তিনি আরো বলেন মোবাইল ফন থেকে দুরে রেখে ছাত্র/ ছাত্রীদের পড়ার টেবিলে নিয়ে আসতে হবে।