যমুনা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে নদীতীরে জড়ো হন হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী। বিসর্জনের সময় আনন্দের আবহ ছাপিয়ে অনেকের চোখেমুখে ফুটে ওঠে বিদায়ের বিষাদ।
বুধবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর জলে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এর আগে বিজয়া দশমী উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা বের করেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ। শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। উৎসবের শেষ দিনে তাদের অংশগ্রহণে শহরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
শহরের মুজিব সড়ক এলাকায় শোভাযাত্রা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সহসভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, সহসভাপতি ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস, সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক ভিপি শামীম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ সুইট, সিরাজগঞ্জ জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট কল্যাণ সাহা, সভাপতি সন্তোষ কুমার কানুসহ পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
যমুনার তীরে প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ভক্তদের উপস্থিতিতে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মুহূর্তে আনন্দের পাশাপাশি অনেকের চোখেমুখে দেখা যায় বিষাদের ছাপ।
দেবী দুর্গার বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। তবে উৎসবের আনন্দ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দেবীর কাছে করা প্রার্থনার স্মৃতি নিয়েই ঘরে ফেরেন ভক্তরা।