বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে নতুন সংসার শুরু করেছিলেন উম্মে হাবিবা (২৩)। কিন্তু চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে স্বামীর ভাড়া বাসায় যাওয়ার তিন দিনের মাথায় উদ্ধার হলো তার ঝুলন্ত মরদেহ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী মাহমুদুল হাসান ও তার ছোট বোন শাকিলাকে আটক করেছে পুলিশ।
উম্মে হাবিবা কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের পালাকাটা এলাকার নুরুল কবিরের মেয়ে। তার স্বামী মাহমুদুল হাসানের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার লোটমনি বানীগ্রামে।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর নবদম্পতি প্রথমে পেকুয়ার টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা এলাকায় বসবাস করতেন। পরে স্বামীর অনুরোধে হাবিবা চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে তার সঙ্গে ভাড়া বাসায় ওঠেন।
হাবিবার পরিবারের অভিযোগ, বিয়েতে এক ভরি স্বর্ণালংকার ও পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। শুরুতে সংসার ভালো চললেও পরে আরও যৌতুকের জন্য তাকে চাপ দেওয়া হতো। বিয়েতে পাওয়া স্বর্ণালংকারও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের। তাদের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে হাবিবাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, মাহমুদুল হাসানের বড় ভাই পারভেজ মুঠোফোনে হাবিবার পরিবারকে জানিয়েছেন, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় হাবিবার মরদেহ পাওয়া যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে স্বামী ও ননদকে আটকের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে হাবিবার মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।