রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। সাজেক সড়কে অবরোধ ও সাম্প্রতিক সংঘর্ষের জেরে পর্যটনকেন্দ্র সাজেক কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে যান চলাচল ও উজোবাজার এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর থেকে সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
অবরোধকারী সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়াও রাঙ্গামাটির সাজেক থেকে জেএসএস (সন্তু লারমার) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ৫ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচ সংগঠন।
এরা হলো গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ, ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)। অবিলম্বে সাজেকবাসীর উক্ত পাঁচ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য প্রশাসন ও সরকারে প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাঁচ সংগঠন।
রবিবার (২৫অক্টোবর) গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি কনিকা দেওয়ান, ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রমোদ জ্যোতি চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক অনিমেষ চাকমা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ’জনগণের জানমালের নিরাপত্তা হরণকারী সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে, বরং যারা সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার ন্যায্য দাবি জানাচ্ছে তাদের ওপর বর্বারোচিত হামলা চালানো হয়েছে, যা সভ্য দেশে একেবারে অকল্পনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।’
তারা সাজেকবাসীর নিরাপত্তা ও জনমাল রক্ষাসহ দেশের সামগ্রিক স্বার্থে সাজেক থেকে জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ৫ দফা দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত সাজেকের অর্থনীতি অনেকটাই পর্যটননির্ভর। রিসোর্ট,কটেজ, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, স্থানীয় দোকানপাট ও পর্যটকসেবার সঙ্গে জড়িত বহু মানুষের জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। অবরোধের কারণে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পর্যটকদের বুকিং বাতিল, পরিবহন বন্ধ এবং রিসোর্ট-কটেজে অতিথি না থাকায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, পর্যটন খাতে কর্মরত কর্মচারী, গাড়িচালক, স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পণ্য সরবরাহকারীরাও সংকটে পড়েছেন। অবরোধের কারণে আয় বন্ধ হয়ে গেলে তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ফলে সাজেকের সংকট এখন কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, স্থানীয় অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে।
রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব পিপিএম জানান, অবরোধের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।