বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা—সব ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ দেশ সবার। তাই দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণেও সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও ঐক্যের মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর, নিরাপদ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রংপুর নগরীর ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষ একসঙ্গে রাজপথে নেমেছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল অধিকার প্রতিষ্ঠা। বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছে। এই সম্প্রীতি বজায় রেখে আগামী দিনেও সবাইকে শান্তিতে বসবাস করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন, যারা দেননি—সবার জন্যই সরকার কাজ করছে। রংপুর নগরীর উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও সেতু, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। উন্নয়নের সুফল যেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পায়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলার সময়ে কিছু মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মতো ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরির চেষ্টা না করার আহ্বান জানান তিনি। কারও বক্তব্য বা আপত্তি থাকলে সংসদে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তা তুলে ধরতে বলেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে যেন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরিতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশকে স্থিতিশীল ও নিরাপদ রাখতে সরকার কাজ করছে। অতীতের রাজনৈতিক চর্চায় পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টাও চলছে। তবে এ পরিবর্তন সফল করতে জনগণের সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পেছনে অসচ্ছল মানুষের বিনামূল্যে থাকার জন্য নির্মিত একটি স্থাপনার কাজ অসমাপ্ত রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেটি সম্পন্ন করতে আরও অর্থের প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে আগামী দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
এর আগে রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীরে এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। এরপর থেকেই খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য ভাতার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন তিনি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
রাধাগোবিন্দ মন্দিরে তারেক রহমানের সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে শিল্পীরা অসুর নৃত্য ও নাটক পরিবেশন করেন। প্রায় এক ঘণ্টা মন্দিরে অবস্থানের পর প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন।