এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে। চলতি বছর এ বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশে, যা গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। তবে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. বোরহান উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার আট জেলার ৬৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫১ হাজার ৩৯৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩ জন। এদের মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ৫৭০ জন এবং ছাত্র ১ হাজার ৩৮৩ জন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ এগিয়ে রয়েছে। এ বিভাগে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। লিঙ্গভিত্তিক ফলে ছাত্রীদের পাসের হার ৫০ দশমিক ২৬ শতাংশ, ছাত্রদের ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ।
বোর্ডের গত কয়েক বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬ সালে পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ২০১৭ সালে ৬৫ দশমিক ৪৪, ২০১৮ সালে ৬০ দশমিক ২১, ২০১৯ সালে ৭১ দশমিক ৭৮, ২০২০ সালে পরীক্ষা না হওয়ায় শতভাগ এবং ২০২১ সালে ৯২ দশমিক ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৭৯ দশমিক ০৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪ দশমিক ৪৮, ২০২৪ সালে ৭৭ দশমিক ৫৬ এবং ২০২৫ সালে ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
এবারের ফলাফলে ৪৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, রংপুর, পঞ্চগড় ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন কলেজ ও স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে। বিপরীতে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
সামগ্রিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের তুলনায় মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই সঙ্গে ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্রদের পাসের হারও পিছিয়ে রয়েছে।